Business

copy trading in bangladesh
Forex Trading, Business

Copy Trading কী? Social Trading কীভাবে কাজ করে | সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও অনলাইন ট্রেডিংয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিনিয়োগ জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যার নাম কপি ট্রেডিং (Copy Trading) ও সোশ্যাল ট্রেডিং (Social Trading)। বর্তমানে ফরেক্স, ক্রিপ্টোকারেন্সি, স্টক ও কমোডিটি মার্কেটে এই পদ্ধতিগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগকারী ও পার্ট-টাইম ট্রেডারদের জন্য এটি একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো, কপি ট্রেডিং ও সোশ্যাল ট্রেডিং কী, এর ইতিহাস ও উৎপত্তি, কীভাবে এটি কাজ করে, ট্রেডার ও বিনিয়োগকারী উভয়ের আয়ের সুযোগ, এবং সর্বশেষে কপি ট্রেডিং থেকে ক্যারিয়ার গড়ার বাস্তব সম্ভাবনা। কপি ট্রেডিং (Copy Trading) কি? কপি ট্রেডিং হলো এমন একটি ট্রেডিং পদ্ধতি যেখানে একজন বিনিয়োগকারী (Follower) স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন অভিজ্ঞ ট্রেডারের (Master Trader বা Signal Provider) ট্রেড কপি করে। মাস্টার ট্রেডার যে সময় যে ট্রেড ওপেন বা ক্লোজ করে, ঠিক একই ট্রেড অনুপাতে বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে এক্সিকিউট হয়ে যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আপনি নিজে ট্রেড না করেও, একজন দক্ষ ট্রেডারের ট্রেড কপি করে লাভ বা ক্ষতির অংশীদার হন। সোশ্যাল ট্রেডিং কী? সোশ্যাল ট্রেডিং হলো একটি বিস্তৃত ধারণা যেখানে ট্রেডাররা একটি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ট্রেডিং আইডিয়া, স্ট্র্যাটেজি, পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। অন্যরা সেই ট্রেড নিজের মতো করে এনালাইসিস করতে পারে, আলোচনা করতে পারে এবং চাইলে কপি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে অনুসরণও করতে পারে। অর্থাৎ, কপি ট্রেডিং হলো সোশ্যাল ট্রেডিংয়ের একটি অংশ। কপি ট্রেডিং ও সোশ্যাল ট্রেডিংয়ের উৎপত্তি ও ইতিহাস কবে ও কিভাবে এর সূচনা হয়? কে বা কার মাধ্যমে এটি আবিষ্কার হয়? কপি ট্রেডিং কোনো একক ব্যক্তির আবিষ্কার নয়। এটি মূলত: এই তিনটির সমন্বয়ে তৈরি একটি আধুনিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনোভেশন। তবে eToro-কে এই ধারণার পথিকৃৎ বলা হয়। কপি ট্রেডিং কীভাবে কাজ করে? একজন ট্রেডার কীভাবে কপি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারে? একজন দক্ষ ট্রেডারের জন্য কপি ট্রেডিং একটি শক্তিশালী আয়ের উৎস হতে পারে। আয়ের প্রধান উপায়: কী লাগবে সফল হতে? একজন বিনিয়োগকারী কীভাবে কপি ট্রেডিং থেকে আয় করতে পারে? যারা নিজে ট্রেডিং শিখতে সময় বা অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে, তাদের জন্য কপি ট্রেডিং কার্যকর। তবে কাউকে কপি দেয়ার পূর্বে অবশ্যই যাচাই করা আবশ্যক। বিনিয়োগকারীর সুবিধা: ঝুঁকি কী? তাই ট্রেডার বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কপি ট্রেডিং থেকে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা কতটা? বর্তমান সময়ে কপি ট্রেডিং একটি ফুল-টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে উঠছে। আপনার যদি যথেষ্ট বিনিয়োগ না থাকে তবে স্বপ্ল বিনিয়োগের মাধ্যমে মাষ্টার ট্রেডার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। ক্যারিয়ার সম্ভাবনা: বাস্তবতা: ✔ সম্ভব, কিন্তু সহজ নয় ✔ দীর্ঘমেয়াদি ডিসিপ্লিন দরকার ✔ ট্র্যাক রেকর্ডই মূল সম্পদ কপি ট্রেডিং কি সবার জন্য উপযুক্ত? ক্যাটাগরি উপযুক্ততা নতুন বিনিয়োগকারী ✔ হ্যাঁ পার্ট-টাইম ট্রেডার ✔ হ্যাঁ লং-টার্ম ইনভেস্টর ✔ সীমিত উচ্চ ঝুঁকি অপছন্দকারী ❌ সতর্ক কপি ট্রেডিং ও সোশ্যাল ট্রেডিং আধুনিক বিনিয়োগ জগতের একটি শক্তিশালী উদ্ভাবন। সঠিক জ্ঞান, ট্রেডার নির্বাচন ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট থাকলে এটি আয়ের পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, এটি কোনো ম্যাজিক নয়, বরং একটি স্কিল ও ডিসিপ্লিন নির্ভর সিস্টেম। কপি ট্রেডিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ফরেক্স ব্রোকার কপি ট্রেডিং সিস্টেম প্রোবাইড করে। যেমন Tickmill, Icmarkets এছাড়া স্বতন্ত্র কিছু প্লাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনি চাইলে মাষ্টার ট্রেডার হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন। যেমন eTro, Mql5, zulutrade অন্যতম। আশা করি আজকের আর্টিকেল আপনার জন্য একটি দিকনির্ধেশক হবে। কারন আপনি চাইলে এখন একটি স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। ধন্যবাদ

Trading Psychology
Forex Trading, Business, Education

ট্রেডিংয়ে লুজার হওয়ার ১০টি মারাত্মক ভুলঃ একজন ট্রেডার কেন বার বার লুজার হয়?

বর্তমান সময়ে ফরেক্স, ক্রিপ্টো কিংবা স্টক মার্কেটে ট্রেড করে দ্রুত টাকা ইনকামে স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কিন্তু বাস্তবে কি সবাই দ্রুত ইনকাম করতে সক্ষম হচ্ছে? আমরা সবাই জানি বাস্তবতা আসলে কি! বাস্তবতা হলো প্রায় ৯৫% ট্রেডার নিয়মিত লুজার এই মার্কেটে। এখন একটি প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, এই ৯৫% ট্রেডারের লসের জন্য প্রকৃতপক্ষে মার্কেটের কোন ভূমিকা আছে নাকি ট্রেডার নিজের ভুলেই লুজার হচ্চেন? এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা কপ্রবো, একজন ট্রেডার ট্রেডিং করার সময় কি কি ভুল গুলো করেন এবং সে ভুলের জন্য তিনি লুজারে পরিণত হচ্ছেন। এই ভুল গুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে আমরা নিজেরা সংশোধিত হয়ে প্রফিটেবল ট্রেড করবো। ট্রেডিং প্লান ছাড়াই ট্রেড করা একজন ট্রেডার সবচাইতে যেটি বড়ো ভুল করেন সেটি হলো কোন প্রকার ট্রেডিং প্লান ছাড়াই ট্রেডিং শুরু করা। ট্রেড শুরু করার পূর্বে আমাদের একটি ট্রেডিং প্লান সাজাতে হবে। এই ট্রেডিং প্লান হতে পারে মাসিক, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক। এছাড়া ট্রেডিং এক্টিভিটিস এর জন্য ও আমাদের একটি ট্রেডিং প্লান সাজাতে হবে। যেমন আপনি যদি উক্ত পয়েন্ট গুলিকে ইগনোর করেন তবে আপনি ট্রেডিং করছেন না। আপনি যেটা করতেছেন সেইটা হলো গেম্বলিং। আবেগ দ্বারা ট্রেড করা (Emotional Trading) একজন ট্রেডারের জন্য তিনটা ভাইরাস খুবই মারাত্বক। যেমন ভয় (Fear), লোভ (Greed) এবং রাগ (Revenge Trading) – এই তিনটি ভাইরাস যা আবেগ কে সংক্রমণ করে এবং তার প্রভাব ট্রেডিংয়ে পড়ে। ট্রেড করার সময় আমরা ভুলে যাই আমাদের নিজের সাথে কি কি কমিটমেন্ট ছিলো। আমরা ভুলে যাই আমি কি কি রুলস মেনে ট্রেডিং করবো। যার জন্য আমরা কিছু ভুল করে ফেলি। যেমন এইসব ভাইরাস একজন ট্রেডারকে শুধু লুজার করে ক্ষ্যান্ত হয় না বরং একজন ট্রেডারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। স্টপলস ইউজ না করা অনেক ট্রেডার মনে করেন, ট্রেডিং করার সময় স্টপলস দেয়ার কোন দরকার নেই। কারন “মার্কেট ঘুরে আসবেই” কিন্তু বাস্তবে স্টপলস কে গুরুত্ব না দেয়া মানে মুহুওর্তেই নিজের পুরো একাউন্ট উড়িয়ে দেয়া। মনে রাখবেন “স্টপলস সবসময় একজন ট্রেডারের বন্ধু, বন্ধুকে নিজের থেকে দূরে রাখবেন না।” ওভার ট্রেডিং করা ধরুন আপনি একদিন ১০/১৫টি বা তার অধিক ট্রেড নিলে এবং সব এন্ট্রি থেকে প্রফিট পাইলেন। এটার অর্থ এই নয় যে, আপনি প্রফেশনাল ট্রেডার হয়ে গেছেন। কিছু এমন রুলস আছে যা মূলত সাইকোলজিক্যাল। এসব ভুল অনেকেই ভুল হিসেবে মানতে নারাজ। তবে কিছু বিষয় মনে রাখবেন একজন প্রফেশনাল ট্রেডার সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। প্রফেশনাল ট্রেডাররা কম কিন্তু কোয়ালিটি ট্রেড করেন। স্বাভাবিক এর চেয়ে বড়ো লট সাইজ ব্যবহার করা মানি ম্যানেজমেন্ট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এই দুটি শব্দ শুধু শব্দ নয়। এই দুটি শব্দ হলো একজন ট্রেডারের উপরে ওঠার সিড়ি। ক্যাপিটাল অনুযায়ী মুহুর্তেই ব্যালেন্স উড়ে যেতে পারে। কারন একটি বড়ো লট সাইজ ছোট মুভমেন্টের জন্য বড়ো লস করিয়ে দিতে পারে। যদি এমনটি হয় তবে এতে করে মানুষিক চাপ অত্যাধিক বেড়ে যায়। তখন একজন ট্রেডার আরো বেশি এগ্রেসিভ আচারণ করতে শুরু করে। লট আরো বাড়িয়ে দিতে পারে, সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট চিহ্নিত না করেও এন্ট্রি প্লেস করতে পারে। আরো অধিক লস হলে সে আরো এগ্রেসিভ হবে এবং একসময় সব হারিয়ে শান্ত হবে। তাই আমাদের অবশ্যই ক্যাপিটাল অনুযায়ী ১-২% রিস্ক নিয়ে ট্রেড করতে হবে। এটা ট্রেডিংয়ের জন্য নিরাপদ এবং ট্রেডারের জন্য মানুষিক প্রশান্তির কারন হতে পারে। মার্কেট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা অনেকেই মনে করে থাকেন যে, ইউটিউব দেখে এবং কিছু সিগন্যাল ফলো করে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু আপনি কখনোই এই পন্থায় দীর্ঘমেয়াদে প্রফিটেবল হতে পারবেন না। একজন সফল ট্রেডার হতে হলে আপনাকে ভালো এডুকেশন নিতে হবে। কিছু বিষয় প্রপার শিখতে হবে। যেমন যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন যে উল্লিখিত বিষয় গুলো সবই আপনি প্রপার জানেন তবে আপনি অবশ্যই সাকসেসফুল ট্রেডার হতে পারবেন। ট্রেডিং জার্নাল না রাখা আপনি যদি আত্মসমালোচনা না করেন তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন যে আপনি উন্নতি করতে পারবেন না। সেইজন্য আপনি অবশ্যই একটি জার্নাল বানাবেন। এসব বিষয় যদি আপনি লিখে রাখেন তভে আপনি ধীরে ধীরে প্রফেশনাল হয়ে উঠবেন একাউন্ট দ্রুত বড় করার লোভ আমাদের এই রিজিওনে অধিকাংশ ট্রেডারেরই একটি কমোন সমস্যা হলো দ্রুত ফান্ড বড়ো করার প্রবনতা। আমরা চাই মার্কেট থেকে যতো দ্রুত সম্ভব এবং যতো বেশি সম্ভব প্রফিট করে দ্রুত ফান্ড বৃদ্ধি করতে। মনে রাখবেন এই মানুষিক প্রবনতা আপনার মধ্যে থাকলে আপনি সারা জীবনেও প্রফিটেবল হতে পারবেন না। এই মার্কেটে সফল হতে চাইলে যেকোন উপায়ে টার্গেট হিট করাটা গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত টার্গেট হিট করাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ট্রেডিং হলো Marathon, Sprint নয়। অন্যের কপি ট্রেড বা সিগন্যালের উপর নির্ভরতা একটি সময় ট্রেডিং সিগন্যাল নিয়ে সবারই বেশ মাতামাতি ছিলো। সম্প্রতি এর হার কিছুটা কমেছে। কারন ১০০% মানুষই সিগন্যাল দ্বারা লুজার হয়েছে। সিগন্যালে সমস্যা হলো, অন্যের স্ট্রাটেজি, অন্যের সাইকোলজি আপনার জন্য কাজ করবে তার কোন নিশ্চিত গ্যারান্টি নেই। সফলতা লুকিয়ে আছে মূলত এসব বিষয় যদি আপনি ফোকাস করতে পারেন তবে আপনার সফলতা আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ধৈর্যের অভাব ট্রেডিং মার্কেটে ট্রেড করার জন্য সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র হলো ধৈর্য। ট্রেডিং মার্কেটে এমন রেকর্ড নেই যে কেউ ধৈর্য ধারন করে ট্রেড করেনি আর সে সফল হয়েছে। এর প্রমান আপনি নিজেই। তাই আমরা অবশ্যই ধৈর্য ধারন করে ট্রেডিং করব। এখন প্রশ্ন হলো কোন কোন ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে? এই বিষয়গুলো যদি ফলো করতে পারেন তবে আপনি সাকসেসফুল ট্রেডার হবেন এটা আশা করা যায়। যারা ধৈর্য ধরতে পারে না, তারাই শেষ পর্যন্ত লুজার হয়। সর্বোপরি আমি বলতে চাই, ট্রেডিংয়ে লুজার হওয়ার মূল কারণ মার্কেট নয়, নিজের ভুল সিদ্ধান্ত ও ডিসিপ্লিনের অভাব। আপনি যদি:✔ ট্রেডিং প্ল্যান মেনে চলেন✔ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট করেন✔ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে আপনিও ধীরে ধীরে একজন Consistent Profitable Trader হতে পারবেন।

Scroll to Top