Education

Trading Psychology
Forex Trading, Business, Education

ট্রেডিংয়ে লুজার হওয়ার ১০টি মারাত্মক ভুলঃ একজন ট্রেডার কেন বার বার লুজার হয়?

বর্তমান সময়ে ফরেক্স, ক্রিপ্টো কিংবা স্টক মার্কেটে ট্রেড করে দ্রুত টাকা ইনকামে স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কিন্তু বাস্তবে কি সবাই দ্রুত ইনকাম করতে সক্ষম হচ্ছে? আমরা সবাই জানি বাস্তবতা আসলে কি! বাস্তবতা হলো প্রায় ৯৫% ট্রেডার নিয়মিত লুজার এই মার্কেটে। এখন একটি প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, এই ৯৫% ট্রেডারের লসের জন্য প্রকৃতপক্ষে মার্কেটের কোন ভূমিকা আছে নাকি ট্রেডার নিজের ভুলেই লুজার হচ্চেন? এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা কপ্রবো, একজন ট্রেডার ট্রেডিং করার সময় কি কি ভুল গুলো করেন এবং সে ভুলের জন্য তিনি লুজারে পরিণত হচ্ছেন। এই ভুল গুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে আমরা নিজেরা সংশোধিত হয়ে প্রফিটেবল ট্রেড করবো। ট্রেডিং প্লান ছাড়াই ট্রেড করা একজন ট্রেডার সবচাইতে যেটি বড়ো ভুল করেন সেটি হলো কোন প্রকার ট্রেডিং প্লান ছাড়াই ট্রেডিং শুরু করা। ট্রেড শুরু করার পূর্বে আমাদের একটি ট্রেডিং প্লান সাজাতে হবে। এই ট্রেডিং প্লান হতে পারে মাসিক, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক। এছাড়া ট্রেডিং এক্টিভিটিস এর জন্য ও আমাদের একটি ট্রেডিং প্লান সাজাতে হবে। যেমন আপনি যদি উক্ত পয়েন্ট গুলিকে ইগনোর করেন তবে আপনি ট্রেডিং করছেন না। আপনি যেটা করতেছেন সেইটা হলো গেম্বলিং। আবেগ দ্বারা ট্রেড করা (Emotional Trading) একজন ট্রেডারের জন্য তিনটা ভাইরাস খুবই মারাত্বক। যেমন ভয় (Fear), লোভ (Greed) এবং রাগ (Revenge Trading) – এই তিনটি ভাইরাস যা আবেগ কে সংক্রমণ করে এবং তার প্রভাব ট্রেডিংয়ে পড়ে। ট্রেড করার সময় আমরা ভুলে যাই আমাদের নিজের সাথে কি কি কমিটমেন্ট ছিলো। আমরা ভুলে যাই আমি কি কি রুলস মেনে ট্রেডিং করবো। যার জন্য আমরা কিছু ভুল করে ফেলি। যেমন এইসব ভাইরাস একজন ট্রেডারকে শুধু লুজার করে ক্ষ্যান্ত হয় না বরং একজন ট্রেডারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। স্টপলস ইউজ না করা অনেক ট্রেডার মনে করেন, ট্রেডিং করার সময় স্টপলস দেয়ার কোন দরকার নেই। কারন “মার্কেট ঘুরে আসবেই” কিন্তু বাস্তবে স্টপলস কে গুরুত্ব না দেয়া মানে মুহুওর্তেই নিজের পুরো একাউন্ট উড়িয়ে দেয়া। মনে রাখবেন “স্টপলস সবসময় একজন ট্রেডারের বন্ধু, বন্ধুকে নিজের থেকে দূরে রাখবেন না।” ওভার ট্রেডিং করা ধরুন আপনি একদিন ১০/১৫টি বা তার অধিক ট্রেড নিলে এবং সব এন্ট্রি থেকে প্রফিট পাইলেন। এটার অর্থ এই নয় যে, আপনি প্রফেশনাল ট্রেডার হয়ে গেছেন। কিছু এমন রুলস আছে যা মূলত সাইকোলজিক্যাল। এসব ভুল অনেকেই ভুল হিসেবে মানতে নারাজ। তবে কিছু বিষয় মনে রাখবেন একজন প্রফেশনাল ট্রেডার সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। প্রফেশনাল ট্রেডাররা কম কিন্তু কোয়ালিটি ট্রেড করেন। স্বাভাবিক এর চেয়ে বড়ো লট সাইজ ব্যবহার করা মানি ম্যানেজমেন্ট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এই দুটি শব্দ শুধু শব্দ নয়। এই দুটি শব্দ হলো একজন ট্রেডারের উপরে ওঠার সিড়ি। ক্যাপিটাল অনুযায়ী মুহুর্তেই ব্যালেন্স উড়ে যেতে পারে। কারন একটি বড়ো লট সাইজ ছোট মুভমেন্টের জন্য বড়ো লস করিয়ে দিতে পারে। যদি এমনটি হয় তবে এতে করে মানুষিক চাপ অত্যাধিক বেড়ে যায়। তখন একজন ট্রেডার আরো বেশি এগ্রেসিভ আচারণ করতে শুরু করে। লট আরো বাড়িয়ে দিতে পারে, সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট চিহ্নিত না করেও এন্ট্রি প্লেস করতে পারে। আরো অধিক লস হলে সে আরো এগ্রেসিভ হবে এবং একসময় সব হারিয়ে শান্ত হবে। তাই আমাদের অবশ্যই ক্যাপিটাল অনুযায়ী ১-২% রিস্ক নিয়ে ট্রেড করতে হবে। এটা ট্রেডিংয়ের জন্য নিরাপদ এবং ট্রেডারের জন্য মানুষিক প্রশান্তির কারন হতে পারে। মার্কেট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা অনেকেই মনে করে থাকেন যে, ইউটিউব দেখে এবং কিছু সিগন্যাল ফলো করে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু আপনি কখনোই এই পন্থায় দীর্ঘমেয়াদে প্রফিটেবল হতে পারবেন না। একজন সফল ট্রেডার হতে হলে আপনাকে ভালো এডুকেশন নিতে হবে। কিছু বিষয় প্রপার শিখতে হবে। যেমন যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন যে উল্লিখিত বিষয় গুলো সবই আপনি প্রপার জানেন তবে আপনি অবশ্যই সাকসেসফুল ট্রেডার হতে পারবেন। ট্রেডিং জার্নাল না রাখা আপনি যদি আত্মসমালোচনা না করেন তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন যে আপনি উন্নতি করতে পারবেন না। সেইজন্য আপনি অবশ্যই একটি জার্নাল বানাবেন। এসব বিষয় যদি আপনি লিখে রাখেন তভে আপনি ধীরে ধীরে প্রফেশনাল হয়ে উঠবেন একাউন্ট দ্রুত বড় করার লোভ আমাদের এই রিজিওনে অধিকাংশ ট্রেডারেরই একটি কমোন সমস্যা হলো দ্রুত ফান্ড বড়ো করার প্রবনতা। আমরা চাই মার্কেট থেকে যতো দ্রুত সম্ভব এবং যতো বেশি সম্ভব প্রফিট করে দ্রুত ফান্ড বৃদ্ধি করতে। মনে রাখবেন এই মানুষিক প্রবনতা আপনার মধ্যে থাকলে আপনি সারা জীবনেও প্রফিটেবল হতে পারবেন না। এই মার্কেটে সফল হতে চাইলে যেকোন উপায়ে টার্গেট হিট করাটা গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত টার্গেট হিট করাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ট্রেডিং হলো Marathon, Sprint নয়। অন্যের কপি ট্রেড বা সিগন্যালের উপর নির্ভরতা একটি সময় ট্রেডিং সিগন্যাল নিয়ে সবারই বেশ মাতামাতি ছিলো। সম্প্রতি এর হার কিছুটা কমেছে। কারন ১০০% মানুষই সিগন্যাল দ্বারা লুজার হয়েছে। সিগন্যালে সমস্যা হলো, অন্যের স্ট্রাটেজি, অন্যের সাইকোলজি আপনার জন্য কাজ করবে তার কোন নিশ্চিত গ্যারান্টি নেই। সফলতা লুকিয়ে আছে মূলত এসব বিষয় যদি আপনি ফোকাস করতে পারেন তবে আপনার সফলতা আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ধৈর্যের অভাব ট্রেডিং মার্কেটে ট্রেড করার জন্য সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র হলো ধৈর্য। ট্রেডিং মার্কেটে এমন রেকর্ড নেই যে কেউ ধৈর্য ধারন করে ট্রেড করেনি আর সে সফল হয়েছে। এর প্রমান আপনি নিজেই। তাই আমরা অবশ্যই ধৈর্য ধারন করে ট্রেডিং করব। এখন প্রশ্ন হলো কোন কোন ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে? এই বিষয়গুলো যদি ফলো করতে পারেন তবে আপনি সাকসেসফুল ট্রেডার হবেন এটা আশা করা যায়। যারা ধৈর্য ধরতে পারে না, তারাই শেষ পর্যন্ত লুজার হয়। সর্বোপরি আমি বলতে চাই, ট্রেডিংয়ে লুজার হওয়ার মূল কারণ মার্কেট নয়, নিজের ভুল সিদ্ধান্ত ও ডিসিপ্লিনের অভাব। আপনি যদি:✔ ট্রেডিং প্ল্যান মেনে চলেন✔ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট করেন✔ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে আপনিও ধীরে ধীরে একজন Consistent Profitable Trader হতে পারবেন।

本間宗久 – Munehisa Homma / Sokyu Homma
Education

Munehisa Homma – The Father of Candlestick Trading

1700-এর দশকে জাপানের অর্থনীতি সিংহভাগ ধান ব্যবসার উপরে নির্ভরশীল ছিলো। উক্ত সময় জাপানে বাস করতেন এক কিংবদন্তি। তিনি ছিলেন সময়ের একজন সেরা ট্রেডার। ট্রেডিং মার্কেটে তার ছিলো নিজেশ্ব বিশ্লেষন ক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিস দক্ষতা। নাম তার মুনিহিসা হোমা (本間宗久 – Munehisa Homma / Sokyu Homma) মুনিহিসা হোমা মার্কেট সেন্টিমেন্ট এনালাইসিস করে এবং মার্কেট ডেটা স্টাডি করে এমন একটি ট্রেডিং সিস্টেম আবিস্কার করেন যা আজও সারা বিশ্বে ব্যবহার করা হয়। তার এই সিস্টেম দ্বারা তিনি শুধুমাত্র ধনভান্ডারের মালিক হয়েছিলেন তা নয়, তিনি Candlestick চার্টের জনক হিসেবেও খ্যাত। তার আবিস্কার গোটা বিশ্বের ট্রেডারদের চিন্তার ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। শৈশব ও পারিবারিক পটভূমি মুনিহিসা হোমা জন্মগ্রহণ করেন ১৭২৪ সালে। জন্মস্থান হলো জাপানের “সাকাটা” নামক শহরে। স্থানীয়ভাবে তার পরিবার “Honma House” নামে পরিচিত। ধান ব্যবসার উপরে এই পরিবার সবচাইতে অভিজ্ঞ ছিলো। হোমা যখন তার পারিবারিক বিজনেসের সাথে যুক্ত হন তখন তিনি বিভিন্ন বিষয় শিখতে থাকেন। বিজনেস যেহেতু পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তাই অভিজ্ঞ হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। হোমা একটা জিনিস ভালোভাবে লক্ষ্য করেন যে, মার্কেট যখন ওঠা-নামা করে তখন সে কি ধরনের প্যাটার্ণ তৈরি করে এবং বায়ার এবং সেলারদের আচারণ কখন কেমন থাকে। গভীর দূরদৃষ্টির এই পর্যবেক্ষণ পরবর্তীতে তাকে মার্কেট এনালাইসিসে অভিজ্ঞ করে তোলে। ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক জীবন হোমা একেবারেই তরুন বয়সে পারিবারিক ধান ব্যবসায় যুক্ত হন। সে সময় জাপানে “Rice Coupons” বা ধানের ফিউচার কন্ট্রাক্ট লেনদেন প্রচলিত ছিল। তিনি সাকাটা শহরের Dōjima Rice Exchange এ লেনদেন করতেন, যা বিশ্বের প্রথম সংগঠিত ফিউচার এক্সচেঞ্জ হিসেবে পরিচিত। হোমা তার ট্রেডিং সিস্টেমে শুধুমাত্র সাপ্লাই/ডিমান্ড থিওরী যুক্ত করেননি, বরং তিনি ক্রেতা এবং বিক্রেতার মানুষিকতার প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেন। তিনি এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, “মার্কেট শুধুমাত্র সংখ্যাগত নয়, বরং মানুষের ইমোশনও জড়িতে যেমন ভয়, লোভ ও আশা মার্কেটে প্রভাব ফেলে।” উদ্ভাবন: Candlestick চার্ট মুনেহিসা হোমা লক্ষ্য করেন প্রতিটি ট্রেডের Open, High, Low, Close (OHLC) তথ্য থেকে বাজারের আবেগ বোঝা যায়। তিনি এই তথ্যকে Candlestick আকারে ভিজ্যুয়ালাইজ করেন, যা পরে “Japanese Candlestick Chart” নামে পরিচিত হয় Candlestick চার্ট ট্রেডারদের নিকট প্রকাশ করেঃ লেখনী ও দর্শন হোমা একটি বই লিখেছিলেন যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। বইটির নাম “San-en Kinsen Hiroku” (The Fountain of Gold) এই বইতে তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন তার মূল বিষয়বস্তু হলোঃ হোমার নিজেশ্ব একটি উক্তি আছে তাহলো, “The market is the mirror of human emotion.” অর্থাৎ মার্কেট মানুষের আবেগের প্রতিবিম্ব। Sakata Rules: হোমার ট্রেডিং নিয়মাবলী হোমা তার জন্মস্থানকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। এতোটাই ভালোবাসতেন যে তার ট্রেডিং সিস্টেমের নাম তার নিজের শহরের নামেই নামকরন করেছেন। হোমা তার শহর সাকাটার নামে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডিং নিয়ম প্রণয়ন করেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক। এগুলো হল: এই নিয়মগুলো আধুনিক Candlestick Pattern Recognition-এর ভিত্তি। সাফল্য ও অর্জন একজন ট্রেডারকে মূল্যায়ন করা হয় মূতল তার অর্জন দেখে। হোমা ছিলেন একজন সফল ট্রেডার। সফল ট্রেডারদের উদাহরণ হিসেবে হোমার নাম অবশ্যই স্মরণ করতে হবে। উত্তরাধিকার মুনেহিসা হোমার চিন্তাধারা আধুনিক ট্রেডিং ও Technical Analysis-এর ভিত্তি। তার আবিস্কার যা যুগ যুগ ধরে বিশ্বে টিকে আছে এবং এর বিকল্প এখন আবিস্কৃত হয়নি। কয়েকটি উদাহরণ দেইঃ মুনিহিসা হোমা এমন একজন ট্রেডার যার স্টাইল বর্তমান সময়ের ট্রেডারদের অবশ্যই ফলো করা উচিৎ। তিনি শুধু একজন ট্রেডার নন, তিনি একজন সফল ট্রেডার, তিনি একজন ট্রেডিং সিস্টেমের জনক। মুনিহিসা হোমার এই জীবন দর্শন থেকে আমরা শিখতে পারি, মার্কেট সেন্টিমেন্ট ও মনস্তত্ত্ব একই সাথে বোঝাটা অনেক জরুরী। Candlestick চার্ট, Market Psychology, Discipline এই তিনটি মূল শিক্ষা এখনও ট্রেডারদের জন্য প্রাসঙ্গিক। আমার সর্শেষ বক্তব্য হলো, মুনেহিসা হোমা শুধু জাপানের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী ট্রেডিং ইতিহাসের জন্য একজন কিংবদন্তি।

Scroll to Top